তিব্বে নববী

কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের গবেষণামূলক গ্রন্থ।

রাসুল ﷺ-এর চিকিৎসা পদ্ধতি

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ ۙ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا

উচ্চারণ:
ওয়া নুনাযযিলু মিনাল-কুরআনি মা হুয়া শিফাউঁ ওয়া রহমাতুল্লিল-মু’মিনীন; ওয়া লা ইয়াযীদুয-যালিমীনা ইল্লা খাসারা।

—সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮২


«لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ، فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ»

—সহিহ মুসলিম, ২২০৪

«بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً»

“আমার পক্ষ থেকে (মানুষের কাছে) পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়।”
সহিহ আল-বুখারি, ৩৪৬১

﴿وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ﴾

আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের নির্দেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।”
সূরা আলে ইমরান, ৩:১০৪

﴿ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ﴾

“তোমার প্রতিপালকের পথে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো।”
সূরা আন-নাহল, ১৬:১২৫

আল্লাহ আমাদের যে হিদায়াত ও জ্ঞান দান করেছেন, তা নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সঠিকভাবে শিখি, আমল করি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর দয়া ও রহমতের আশায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেই ।

হয়তো আপনার পৌঁছে দেয়া একটি আয়াত, একটি সহিহ হাদিস, অথবা একটি সত্য কথা—কোনো একজন মানুষের জীবনে হিদায়াতের কারণ হয়ে যাবে “ইনশাআল্লাহ”

আল্লাহর দিকে আহ্বান করা শুধু কথা বলার বিষয় নয়; এটি আমানত, দায়িত্ব এবং দুনিয়া আখেরাতে নাজাত ও নিরাপত্তা লাভের একটি মহান সুযোগ “ইনশাআল্লাহ”।

আল্লাহ আমাদেরকে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ সঠিকভাবে বুঝে, নিজের জীবনে আমল করে এবং হিকমাহর সঙ্গে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাওফিক দান করুন।  “আমিন।“

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নামে কোনো কথা বলার আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নামে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা কথা প্রচার করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন।

«وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»

উচ্চারণ: ওয়া মান কাযাবা আলাইয়া মু‘তাম্মিদান ফালইয়াতাবাওয়্যা মাক‘আদাহু মিনান্নার।

অর্থ: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার স্থান নির্ধারণ করে নেয়।”

সহীহ আল-বুখারী, হাদিস ৩৪৬১

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
এই হাদিস আমাদের শেখায়—রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নামে কোনো হাদিস, কথা বা বক্তব্য প্রচার করার আগে তার উৎস ও সত্যতা যাচাই করা আমাদের দায়িত্ব। জানা না থাকলে নিশ্চিতভাবে “রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন” বলা উচিত নয়। কারণ সত্য কথা যাচাই করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যেমন সওয়াবের কাজ, তেমনি যাচাই না করে তাঁর নামে ভুল বা মিথ্যা কথা প্রচার করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।

প্রিয় পাঠক, আলহামদুলিল্লাহ! এই গ্রন্থে কুরআন ও হাদিসের প্রতিটি দলিল নির্ভরযোগ্য সূত্র, আয়াত নম্বর ও হাদিসের রেফারেন্সসহ যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

এই গ্রন্থ রচনার একমাত্র উদ্দেশ্য—আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

“আমি জিন ও মানুষকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।”
—সূরা আয-যারিয়াত, ৫১:৫৬

মানুষের জীবনের মূল উদ্দেশ্য যখন আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন, তখন সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মানুষের কল্যাণে উপকারী জ্ঞান অর্জন, সংরক্ষণ ও পৌঁছে দেওয়াও একটি মহান দায়িত্ব।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ

“আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।”
—সহিহ আল-বুখারি, ৭১

এই মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মানুষের কল্যাণে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সুন্নাহ ও নির্দেশনাগুলো কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে নির্ভরযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা, সেগুলোর সঠিক অর্থ ও প্রয়োগ তুলে ধরা এবং পাঠকের জন্য সেগুলোকে সহজ, বোধগম্য ও বাস্তব জীবনে উপযোগী করে উপস্থাপন করাই এই গ্রন্থের প্রধান লক্ষ্য।

আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিকে এই গ্রন্থ রচনার একমাত্র ও সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য হিসেবে সামনে রেখে উপকারী জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করা।

স্বাস্থ্য, খাদ্য, জীবন-যাপন, রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশনাগুলো নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা, যাতে পাঠক নববী চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারেন।

শুধু তথ্য, আলোচনা বা তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান নয়; বরং পাঠক যেন বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারেন, সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করতে পারেন—সেই লক্ষ্যেই চিকিৎসা পদ্ধতি ও নির্দেশনাগুলো ব্যবহারিকভাবে উপস্থাপন করা।

রোগ দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সংরক্ষণ এবং সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারার গুরুত্ব তুলে ধরা; যাতে মানুষ অসুস্থতার চিকিৎসার পাশাপাশি সুস্থতা রক্ষার বিষয়েও সচেতন হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ ۙ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا

উচ্চারণ:
ওয়া নুনাযযিলু মিনাল-কুরআনি মা হুয়া শিফাউঁ ওয়া রহমাতুল্লিল-মু’মিনীন; ওয়া লা ইয়াযীদুয-যালিমীনা ইল্লা খাসারা।

অর্থ:
“আমি কুরআনে এমন কিছু নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত; কিন্তু তা জালিমদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।”
—সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮২

নববী চিকিৎসার নির্দেশনার পাশাপাশি চিকিৎসা গ্রহণের ইসলামী নীতিমালা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা-জ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরে পাঠককে সঠিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা।

কারণ ইসলাম চিকিৎসা গ্রহণকে উপেক্ষা করতে শেখায় না।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

«لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ، فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ»

অর্থ:
“প্রত্যেক রোগের জন্য চিকিৎসা রয়েছে। রোগের উপযুক্ত চিকিৎসা— রোগের সঙ্গে সঠিকভাবে মিলে গেলে, আল্লাহর অনুমতিতে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।”

—সহিহ মুসলিম, ২২০৪

কুরআন ও সহিহ সুন্নাহকে মূল ভিত্তি রেখে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণার সহায়তায় বিষয়গুলো সুস্পষ্ট, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে উপস্থাপন করা। কোনো তথ্য দুর্বল, অনির্ভরযোগ্য বা বিতর্কিত হলে তা যথাযথভাবে স্পষ্ট করে দেওয়া, যাতে পাঠকের সামনে সত্য ও নির্ভরযোগ্য জ্ঞানই অগ্রাধিকার পায়।


এই গ্রন্থ যেন কেবল একটি বই হয়ে না থাকে; বরং কুরআন ও সহিহ সুন্নাহভিত্তিক উপকারী জ্ঞান, নববী চিকিৎসার সঠিক বোঝাপড়া এবং সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন-যাপনের একটি নির্ভরযোগ্য পথনির্দেশিকা হয়ে ওঠে—এটাই আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা।

আমরা চাই, এই গ্রন্থের মাধ্যমে পাঠক শুধু চিকিৎসা-পদ্ধতি সম্পর্কে জানবেন না; বরং সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা, সঠিক জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ এবং নিজের স্বাস্থ্য ও জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে ইসলামের সুন্দর নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করার প্রেরণাও লাভ করবেন।

আর আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার অন্তরে রয়েছে একটিই আশা—আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি।

হে আল্লাহ! আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে একমাত্র আপনার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন। এতে বরকত দান করুন, একে উপকারী জ্ঞানের একটি মাধ্যম হিসেবে কবুল করুন, এর মাধ্যমে মানুষকে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন ও আমল করার তাওফিক দান করুন এবং এই গ্রন্থকে অসংখ্য মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের একটি মাধ্যম হিসেবে কবুল করুন। আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন, আমাদের নিয়তকে বিশুদ্ধ রাখুন এবং এই প্রচেষ্টাকে আমাদের জন্য সদকায়ে জারিয়ার একটি মাধ্যম করে দিন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।



بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

এই আলোচনার একমাত্র উদ্দেশ্য—আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানুষের কল্যাণে জিন, জাদু ও রুকইয়াহ শরইয়াহ সম্পর্কে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর প্রমাণিত নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ ۙ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا

উচ্চারণ:
ওয়া নুনাযযিলু মিনাল-কুরআনি মা হুয়া শিফাউঁ ওয়া রহমাতুল্লিল-মু’মিনীন; ওয়া লা ইয়াযীদুয-যালিমীনা ইল্লা খাসারা।

অর্থ:
আমি কুরআনে এমন কিছু নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত; কিন্তু তা জালিমদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।”


—সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮২

কুরআন মুমিনের জন্য হিদায়াত, রহমত ও শিফার মহান উৎস। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মতকে প্রমাণিত রুকইয়াহ ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। তাই রুকইয়াহ শরইয়াহর ভিত্তি হলো আল্লাহর ওপর ঈমান, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল এবং কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর অনুসরণ।

এই আলোচনায় জিন ও জাদু সম্পর্কে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহতে প্রমাণিত বিষয়গুলো এবং রুকইয়াহ শরইয়াহর সঠিক পদ্ধতি, প্রমাণিত আয়াত ও দোয়া এবং আত্মরক্ষার আমল সহজ ও ব্যবহারিকভাবে তুলে ধরা হবে।

জিন, জাদু কিংবা যেকোনো অসুস্থতা ও কষ্টের ক্ষেত্রে একজন মুমিন আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করবেন এবং তাঁর কাছেই শিফা ও সাহায্য প্রার্থনা করবেন।

শিফা একমাত্র আল্লাহ তাআলার হাতে; রুকইয়াহ হলো তাঁর কাছে শিফা প্রার্থনার একটি শরিয়তসম্মত মাধ্যম।

জিন ও জাদু সম্পর্কে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহতে যেসব বিষয় প্রমাণিত, সেগুলো দলিলের আলোকে তুলে ধরা হবে। দলিলসমর্থিত নয়—এমন কোনো ধারণা বা প্রচলিত কথাকে ইসলামের বিধান হিসেবে উপস্থাপন করা হবে না।

রুকইয়াহ শরইয়াহ কী, কেন করা হয় এবং কীভাবে কুরআন ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রমাণিত দোয়ার মাধ্যমে রুকইয়াহ করা যায়—তা সহজভাবে তুলে ধরা হবে।

বিশেষভাবে একজন মুসলিম যেন সঠিক জ্ঞান অর্জন করে নিজের জন্য এবং পরিবারের সদস্যদের জন্যও প্রমাণিত রুকইয়াহ নিজেই করতে পারেন—ইনশাআল্লাহ, সে বিষয়টি ব্যবহারিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। নিজের জন্য সূরা আল-ফাতিহা এবং ইখলাস, ফালাক ও নাসের মাধ্যমে রুকইয়াহর প্রমাণিত আমলগুলোও যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।

কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, দোয়া ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনকে সুন্নাহর আলোকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রমাণিত আত্মরক্ষার আমলগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে। কোনো আমলের সংখ্যা হাদিসে নির্ধারিত না থাকলে নিজের পক্ষ থেকে সেটিকে সুন্নাহ হিসেবে নির্ধারণ করা হবে না।

রুকইয়াহ শরইয়াহ আল্লাহর কাছে শিফা প্রার্থনার একটি শরিয়তসম্মত মাধ্যম। পাশাপাশি শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বৈধ চিকিৎসা গ্রহণ করা হবে। রুকইয়াহকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হবে না।


এই আলোচনা পাঠকের সামনে জিন, জাদু ও রুকইয়াহ শরইয়াহ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট, নির্ভরযোগ্য ও কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক ধারণা তুলে ধরবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পাঠক যেন আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল দৃঢ় করেন, কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেন এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রমাণিত আমলগুলো ভালোবাসার সঙ্গে গ্রহণ করেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে প্রত্যেক মুসলিম যেন নিজের জন্য এবং নিজের পরিবারের জন্য প্রমাণিত রুকইয়াহ নিজেই করতে শেখেন এবং আল্লাহর কাছে শিফা ও রহমত প্রার্থনা করতে পারেন—ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলাই প্রকৃত শিফাদাতা। আমরা তাঁর ওপর ভরসা করি, তাঁর কাছেই শিফা চাই এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রমাণিত পথ অনুসরণ করি।

হে আল্লাহ! আমাদের এই প্রচেষ্টা একমাত্র আপনার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন। আমাদেরকে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান ও সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দিন। আমাদের নিজেদের ও পরিবারের জন্য রুকইয়াহ শরইয়াহ সঠিকভাবে শেখা ও আমল করার তাওফিক দিন এবং আমাদের সকলকে সুস্থতা, আফিয়াত, রহমত ও কল্যাণ দান করুন।

আল্লাহুম্মা আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।