أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
আউযুবিল্লাহি মিনাশ–শাইত্বানির রজীম
অর্থ: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
অর্থ: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।
✦ ✦ ✦
তিব্বে নববী
রাসুল (ﷺ)-এর চিকিৎসা পদ্ধতি।
কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের গবেষণামূলক গ্রন্থ।
সুস্থতা, চিকিৎসা, রোগ প্রতিরোধ, রুকইয়াহ ও সুস্থ জীবন-যাপনের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারিক নির্দেশিকা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আমার পক্ষ থেকে (মানুষের কাছে) পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়।”
— সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ৩৪৬১।
এই হকের দাওয়াত সকলের কাছে পৌঁছে দেয় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উম্মত হিসেবে আমাদের সকলের দায়িত্ব।
আপনি আমি — আমরা সকলে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।
কুরআন—মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।
কুরআন আল্লাহ তাআলার বাণী। আল্লাহ তাআলা কুরআনকে মুমিনদের জন্য শিফা, রহমত ও হিদায়াত হিসেবে নাজিল করেছেন। রুকইয়াহ শরইয়াহর ক্ষেত্রেও কুরআনের এই বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
﴿وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ ۙ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا﴾
উচ্চারণ:
ওয়া নুনাযযিলু মিনাল-কুরআনি মা হুয়া শিফাউঁ ওয়া রহমাতুল্লিল-মু’মিনীন; ওয়া লা ইয়াযীদুয-যালিমীনা ইল্লা খাসারা।
অর্থ:
“আমি কুরআনে এমন বিষয় নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত; আর তা জালিমদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।” —
— সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮২
এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, মুমিনদের জন্য কুরআন শিফা ও রহমত। পক্ষান্তরে, যারা জুলুম ও অবাধ্যতার ওপর অটল থাকে এবং কুরআনের হিদায়াত গ্রহণ করে না, তাদের জন্য কুরআন কল্যাণের পরিবর্তে ক্ষতি বৃদ্ধি করে।
শিরক মহা জুলুম।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
﴿إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ﴾
উচ্চারণ:
ইন্নাশ-শিরকা লাযুলমুন ‘আজীম।
অর্থ:
“নিশ্চয়ই শিরক মহা জুলুম।”
— সূরা লুকমান, ৩১:১৩
আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কাউকে শরিক করাকে শিরক বলা হয় এবং যে ব্যক্তি শিরক করে তাকে মুশরিক বলা হয়। শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম। তবে প্রত্যেক জালিম মুশরিক নয়; কারণ জুলুম বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। কিন্তু শিরক নিজেই মহা জুলুম।
কুরআন মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও শিফা।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—
﴿قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ﴾
উচ্চারণ:
কুল হুয়া লিল্লাযীনা আমানূ হুদাওঁ ওয়া শিফা-উন।
অর্থ:
“বলুন, এটি তাদের জন্য হিদায়াত ও শিফা, যারা ঈমান এনেছে।”
— সূরা ফুসসিলাত, ৪১:৪৪
অতএব, কুরআন মুমিনের জন্য হিদায়াত, শিফা ও রহমত। রুকইয়াহ শরইয়াহতে কুরআনের আয়াত পাঠ করা এই মহান বৈশিষ্ট্যেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক দিক।
মূল শিক্ষা ।
কুরআন মুমিনের জন্য শিফা ও রহমত। তবে শিফা প্রদানকারী একমাত্র আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ তাআলা কুরআনকে শিফার মাধ্যম ও মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত করেছেন। তাই রুকইয়াহর সময় কুরআন তিলাওয়াদ করার পাশাপাশি অন্তরকে আল্লাহ তাআলার ওপর ঈমান, তাওয়াক্কুল ও নির্ভরতার সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে।
সুতরাং কুরআনের প্রতি ঈমান, কুরআনের হিদায়াত গ্রহণ এবং আল্লাহ তাআলার ওপর তাওয়াক্কুল—মুমিনের জন্য কুরআনের শিফা ও রহমত লাভের পথকে আরও দৃঢ় করে।
আল্লাহর সাহায্য ও মুক্তির পথ।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
বাংলা উচ্চারণ:
ওয়া মাইয়্যাত্তাকিল্লাহা ইয়াজ‘আল লাহু মাখরাজা। ওয়া ইয়ারযুকহু মিন হাইছু লা ইয়াহতাসিব।
অর্থ:
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে), আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করে না।”
— সূরা আত-তালাক, ৬৫:২–৩।
এটি একজন মুমিনের জন্য কত বড় সুসংবাদ!
মানুষ যখন এমন কোনো সমস্যায় পড়ে, যার কোনো সমাধান সে দেখতে পায় না, তখনও আল্লাহর ওপর তাকওয়া অবলম্বনকারী বান্দার জন্য আল্লাহ অদৃশ্য পথ খুলে দিতে পারেন।
আর শুধু পথই নয়—
“তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করে না।”
সুতরাং তাকওয়া শুধু আখিরাতের বিষয় নয়; দুনিয়ার জীবনেও আল্লাহর সাহায্য, রিজিক ও সংকট থেকে মুক্তির সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তাকওয়া কী ?
তাকওয়া (التقوى) হলো—আল্লাহকে ভয় ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁর আদেশ পালন করা, তাঁর নিষেধকৃত সবকিছু থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করার সচেতন চেষ্টা করা।
সহজভাবে বলা যায়—
আল্লাহ যা করতে বলেছেন তা করা, যা করতে নিষেধ করেছেন তা ছেড়ে দেওয়া এবং প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে মনে রাখা—“আল্লাহ আমাকে দেখছেন।”
তাকওয়া শুধু মুখে আল্লাহকে ভয় করার নাম নয়; বরং অন্তরের ঈমান, আল্লাহভীতি, আনুগত্য, গুনাহ বর্জন ও আত্মসংযম—সবকিছুর সমন্বিত রূপই তাকওয়া।
তাকওয়ার মূল বিষয়গুলো
- ঈমান ও আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।
- আল্লাহর ফরজ আদেশ পালন করা।
- হারাম ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
- সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকেও সতর্ক থাকা।
- গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা।
- গুনাহ হয়ে গেলে দ্রুত তওবা করা।
- প্রতিটি কাজের আগে ও পরে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো।”
— সূরা আলে ইমরান, ৩:১০২
অতএব, তাকওয়া হলো এমন একটি জীবন্ত ঈমানি অবস্থা, যা মানুষকে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে নিয়ে যায় এবং গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। যে বান্দা তাকওয়ার সঙ্গে আল্লাহ তাআলার ওপর নির্ভর করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য সংকট থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন এবং এমন স্থান থেকে রিজিক দেন ও সাহায্য করেন, যা সে কল্পনাও করেনি।